হালাল প্রাণীর যে অংশগুলো খাওয়া নিষেধ

২৭ মে, ২০২৬

ইসলামি জীবনবিধানে হালাল ও হারামের পার্থক্য অত্যন্ত সুষ্পষ্ট। মহান আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য পবিত্র ও কল্যাণকর সব বস্তুকে হালাল করেছেন এবং অপবিত্র ও ক্ষতিকর বিষয়গুলোকে করেছেন হারাম।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা গরু, মহিষ, ছাগল বা ভেড়ার মতো বিভিন্ন হালাল প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করে থাকি। বিশেষ করে কোরবানির সময় বা উৎসব-আয়োজনে পশু জবাইয়ের ধুম পড়ে যায়।

তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একটি হালাল প্রাণীর প্রতিটি অঙ্গই ভক্ষণযোগ্য নয়। জবেহকৃত পশুর এমন কিছু নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, যা খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই জেনে রাখা জরুরি যে, পশুর কোন অংশগুলো আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য বৈধ রেখেছেন আর কোনগুলো বর্জন করতে বলেছেন। কালবেলার পাঠকদের জন্য পশুর সেই নিষিদ্ধ অংশসমূহের পরিচয় জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার।

তিনি বলেন, ফোকাহায়ে কেরামের মতে, একটি হালাল পশুর সাধারণত ৬টি বা ৭টি অংশ খাওয়া নিষেধ। সেগুলো হলো-

১. প্রবাহিত রক্ত: পশু জবাই করার সময় যে রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তা ভক্ষণ করা সম্পূর্ণ হারাম।

২. লজ্জাস্থান: পশুর লজ্জাস্থান (নর বা মাদি নির্বিশেষে) খাওয়া ইসলামে বৈধ নয়।

৩. অণ্ডকোষ: পুরুষ পশুর অণ্ডকোষ বা বিচি খাওয়া নিষেধ।

৪. মূত্রথলি: পশুর শরীরের যে অংশে প্রস্রাব জমা থাকে, সেই থলিটি ফেলে দিতে হবে।

৫. পিত্ত ও পিত্তথলি: পশুর যকৃতের সাথে থাকা পিত্ত বা পিত্তথলি খাওয়া নিষিদ্ধ।

৬. রক্ত প্রবাহিত হওয়ার রগ: শরীরের যেসব প্রধান রগ দিয়ে রক্ত চলাচল করে, মাংস কাটার সময় সেগুলো বর্জন করা উচিত।

নাড়িভুঁড়ি ও চামড়া কি খাওয়া যাবে?

আমাদের সমাজে অনেক সময় নাড়িভুঁড়ি বা চামড়া খাওয়া নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়। এ বিষয়ে শরিয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা হলো, পশুর নাড়িভুঁড়ি খাওয়া নাজায়েজ নয়। তবে এটি খাওয়ার প্রধান শর্ত হলো, এর ভেতরকার সব ধরনের নাপাকি ও ময়লা খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।