২৭ মে, ২০২৬
গাজা সিটিতে বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখার নতুন প্রধান মোহাম্মদ ওদেহকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবারের এই হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট এবং দেশটির সামরিক বাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, কয়েক মাস ধরে নজরদারির পর গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে ওদেহের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর যে ভবনগুলোকে তার গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
হামলাটি চালানো হয় গাজা সিটির ব্যস্ত বাজার এলাকা সংলগ্ন আল-কায়ালি ভবনে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এলাকায় তখন কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিল মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে অন্তত পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। এতে ভবনের ওপরের তিনটি তলা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ভবনের ব্যাপক ক্ষতি এবং আশপাশের তীব্র যানজটের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলার সময় হামাসের আরেক সদস্যের অ্যাপার্টমেন্টেও আঘাত করা হয়। ওই ব্যক্তি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং মোহাম্মদ ওদেহের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ ওদেহকে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার ‘অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি বহু ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাসদস্য হত্যা, অপহরণ এবং আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
এর আগে মে মাসের শুরুতে হামাসের সামরিক শাখার আগের প্রধান ইজ্জ আদ-দিন আল-হাদ্দাদও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। সেই হামলাতেও একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং অন্তত তিনজন নিহত হন বলে জানিয়েছিল স্থানীয় সূত্র।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।