‘ঈদ বোনাস’ নামে পকেট কাটছে সিএনজি

২৮ মে, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘ঈদ বোনাস’ নামে ১০-৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের বাগবিতণ্ডা চরমে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা দেখা গেছে।

সিরাজগঞ্জ শহরের কাঠেরপুর থেকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাসস্ট্যান্ডে নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা। তবে গত তিন দিন ধরে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার রাত ৮টার পর এ ভাড়া বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন চালকরা।

একইভাবে শহরের বাজার স্টেশন থেকে কাজীপুর, পেপুলবাড়িয়া বাজার, হাটিকুমরুল, কড্ডার মোড় থেকে শহর ও শহর থেকে বেলকুচিতে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। আর রাত হলেই এ ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় তিনগুণ।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের কাঠেরপুল সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় সিএনজি চালকের সঙ্গে এক যুবকের বেশ উচ্চস্বরে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। ওই যুবক ঢাকায় পোশাকশ্রমিকের কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে রায়গঞ্জের গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু ৭০ টাকা ভাড়ায় রাজি না হওয়ায় চালক তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। পরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়াতেই রওয়ানা দেন তিনি।

স্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও অনেক সময় গাড়ি ছাড়তে দেখা যায়নি। দিনভর যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ছবি তুলতে গেলে এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে এগিয়ে আসেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি শান্ত হয়ে কথা বলেন। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে চালকদের দাবি, বছরে দুইটি ঈদে তারা ‘বোনাস’ হিসেবে ঈদের আগে ও পরে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে থাকেন।

ওই স্ট্যান্ডের আরও কয়েকজন চালক অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তাদের মতে, সিরাজগঞ্জ শহরের প্রত্যেক রুটেই ঈদ মৌসুমে এ ধরনের ভাড়া বাড়ানো হয়ে থাকে।

তবে অটোরিকশাচালকরা বলছেন, জেলায় শতাধিক রুটে ৫-৭ হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। ঈদের সময় এলাকায় যাত্রী বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে চালকদের খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়। এজন্য তারা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন।