২৮ মে, ২০২৬
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
এতে আহত হয়েছে আরো ৭৪ জন। স্থানীয় পুলিশ ও কেনিয়া রেড ক্রস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমের গিলগিল এলাকায় অবস্থিত উতুমিশি গার্লস স্কুলের একটি ডরমিটরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল।
ঘটনাাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা।
পুলিশ কমান্ডার মাসউদ মুইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
ওয়াম্বুই নদেরিতু নামে এক নারী, যার ভাতিজি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বলেন, ‘আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে বলা হয়।
তখন সবাই আতঙ্কিত ছিল। কারণ শুনেছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। ’
তিনি জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডরমিটরির ওপরতলা থেকে লাফ দেয়। এতে অনেকে গুরুতর আহত হয়। তার ভাতিজি আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার একটি পা ভেঙে গেছে।
কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, রয়টার্স