২৯ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারেও বন্দিদের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। চার দেয়ালের ভেতরেও যেন ঈদের আনন্দ কিছুটা অনুভব করতে পারেন বন্দিরা সেই লক্ষ্যেই বিশেষ খাবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ঈদুল আজহার দিনে শুরু হয়ে আজও দ্বিতীয় দিনের মত কারাগারে এ উৎসব চলছে। এ উৎসব চলবে আগামী শনিবার ৩০ মে পর্যন্ত। ঈদের দিন বন্দিদের খবারের মেন্যুতে ছিল রাজকীয় পরিবেশন। এছাড়াও উৎসবের নির্ধারিত তিন দিন বন্দীদের দেখতে আসা স্বজনদের জানানো হচ্ছে ফুলেল অভ্যর্থনা।
বন্দিরা নিতে পারছেন পরিবার ও স্বজনদের বাড়িতে রান্না করা খাবারের স্বাদ। বাড়তি সুবিধা হিসেবে সকল বন্দি পাচ্ছেন কারা অভ্যন্তরের ডিজিটাল মোবাইল বুথ থেকে প্রিয়জনদের সাথে ৫ মিনিট নিরিবিছিন্ন কথা বলার সুযোগ।
কুড়িগ্রাম কারা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কারাগারে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়। উৎসবের আমেজ বাড়াতে সকালের শুরুতেই বন্দিদের আপ্যায়ন করা হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে।
এরপর আজও শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মত তাদের দেয়া হচ্ছে খাবার, একই সাথে স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার সুবিধে।
কারাবন্দিদের জন্য দুপুরের মেন্যুতে ছিল সুগন্ধি পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও সালাদ। খাবার পরবর্তী ডেজার্ট হিসেবে থাকছে মিষ্টি ও চমচম। খাবারে তৃপ্ততা আনতে যোগ হয়েছে কোমল পানীয় ও পান-সুপারি।
ঈদের দিন রাতের খাবারে ছিল সাদা ভাত, ফ্রাই রুই মাছ ও মজাদার আলুর দম। আজ শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মত রাতও থাকবে একই রকমের সুস্বাধু খাবার।
ঈদের দিনে সাজসজ্জায় নারী বন্দীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় মেহেদী, লিপস্টিক, হেয়ার ক্ল্যাচারসহ নানান প্রসাধনী। এছাড়া বন্দী মায়ের সাথে থাকা দুই বছরের এক শিশুকে দেয়া হয় নতুন পোশাক।
শুক্রবার উলিপুর থেকে বন্দি স্বজনকে দেখতে আসা আছিয়া বেগম, রৌমারীর ময়নুল ইসলাম, নাগেশ্বরীর সামিউল হক।
তারা জানান, আমরা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলখানার ভেতরে বাসা থেকে প্রয়োজনীয় রান্না করা খাবার দিতে পারছি, তবে এই খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ভিতরে পাঠানো হচ্ছে। সাক্ষাতের সময় আগের চেয়ে নির্বিঘ্নে একটু বেশি সময় কথা বলতে পারছি, ঈদের জন্য নতুন পোশাকও দিতে পারছি এজন্য আমাদের কাছে কারা কর্তৃপক্ষের এই আন্তরিকতা অনেক ভালো লাগছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার এজি মামুদ জানান, কারাগারে বর্তমানে ৩৬৪ জন বন্দি রয়েছে, এর মধ্যে নারী বন্দির সংখ্যা ১৮ জন। আমরা বন্দিদের জন্য সবসময় মানবিক আচরণ করি। তারা যেন নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন সেই লক্ষ্যেই তিনদিন ব্যাপী এই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা। আমরা মনে করি, বন্দিদের সংশোধন প্রক্রিয়ায় আমাদের মানবিক আচরণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে