১৫ জুলাই, ২০২৬
সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, ‘সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামের দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চর পুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের সময় তারা নিজেদের ব্যবহৃত তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শ্যুটার, একটি ফোর শ্যুটার, পাঁচটি দেশি একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশি পাইপ গান, দুটি চায়না পাইপ গান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেয়।
’
কোস্ট গার্ড বলেছে, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মধ্যে বাহিনীপ্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ১৮ জন খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া আটজন বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার এবং একজন পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর আগে কোস্ট গার্ডের অভিযানের মুখে বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, ‘চলমান বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের জিম্মিদশা থেকে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে এখনো সক্রিয় থাকা বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় আরো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।