৩০ মে, ২০২৬
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে মোংলায় গৃহহীন হীরা আক্তারকে নতুন একটি ঘর উপহার দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার ভূমি ও গৃহহীন হীরা আক্তার পলিথিনের জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করতেন। পরের জায়গায় সেই ঘরে তার পরিবারকে গরম, বর্ষা ও শীতে কষ্ট পেতে হতো। এমতাবস্থায় হীরা স্থানীয় (মোংলা-রামপাল) এমপি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে ঘর সাহায্য চান। এরপর প্রতিমন্ত্রী তাকে নতুন একটি ঘর করে দেন।
ঘর পাওয়ার পর হীরার আবদার ছিল তার নতুন ঘরটি যেন প্রতিমন্ত্রী একবার হলেও দেখে যান। সেই আবদার মেটাতেই শুক্রবার সিগনাল টাওয়ার এলাকায় হীরার নতুন ঘরে আসেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদ।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘরটি ঘুরে দেখেন এবং হীরা পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির তালুকদার, গোলাম নুর জনি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ অন্যান্যরা।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে হীরা আক্তার (২০) বলেন, পাখিরও থাকার একটা বাসা আছে। কিন্তু আমার তাও ছিল না। আমি আর আমার মা পলিথিনের একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতাম, খুব কষ্ট হতো আমাদের। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে মাকে নিয়ে খাই। মাও অসুস্থ কোনো কাজ কর্ম করতে পারেন না। নিজে যা পাই তা দিয়ে খাওয়াই ঠিকমত হয় না। খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়, আর ঘর করবো কি দিয়ে। কিন্তু একদিন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে যাই ঘরের জন্য। আমার কথা শুনে সে সঙ্গে সঙ্গেই ঘর করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে তার লোকজন দিয়ে আমাদেরকে নতুন একটি ঘর করে দিয়েছেন। এখন নিরাপদে থাকার একটা ব্যবস্থা হয়েছে। আমি ও আমার মা তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার ভালো করেন।
প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় অঙ্গীকার করেছিলাম সমাজে যারা সমস্যায় আছে তাদের দিকে খেয়াল রাখব। তাই শনিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে একটি নতুন ঘর উপহার দেওয়া হলো। এর চেয়ে আর ভাল উপহার কি হতে পারে। এখন আর রোদ, বৃষ্টি ও শীতে কষ্ট পেতে হবে না হীরার পরিবারকে। আমরা যারা ভালো অবস্থানে আছি আমাদেরকে অবশ্যই সমাজের এমন মানুষের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।