৩১ মে, ২০২৬
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য মো. ফারুককে (৪৪) গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে মূল্যবান মালামাল ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নৌ পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ভোলা-ইলিশাগামী এমভি ইয়াদ লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় ডেকে মো. ফারুককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে এবং অন্য যাত্রীর ব্যাগ হাতানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্বরত নৌ পুলিশ সদস্যদের জানানো হলে ঢাকা সদরঘাট নৌ থানা ও টহলকারী নৌ পুলিশের একটি দল দ্রুত লঞ্চে গিয়ে আনসার সদস্য ও লঞ্চ স্টাফদের সহায়তায় তাকে আটক করে।
এ সময় লঞ্চের ডেকে ফারুকের পাশে থাকা দুই যাত্রী মো. নাসিম হাজারী (৬০) ও মো. সাহাবুদ্দিনকে (২৮) তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময় হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য যাত্রীর সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে লঞ্চটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, লঞ্চের মালিক ও স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ দুই যাত্রীকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে নামিয়ে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়। চিকিৎসা শেষে দুই যাত্রীই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নৌ পুলিশ আরও জানায়, মো. ফারুক তার সহযোগীদের সহায়তায় ওই দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় খাবার কিংবা দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাদের মূল্যবান সামগ্রী ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছিলেন। রেকর্ড পর্যালোচনায় ফারুকের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে নৌ পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।