ভূঞাপুরে রাবি, রুয়েট ও রামেক শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী

০১ জুন, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিরা যে আজও কতটা জীবন্ত, কতটা প্রাণোচ্ছল— তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো এক জমকালো পুনর্মিলনীর মধ্য দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এই চমৎকার ঈদ পুনর্মিলনীর।

ভূঞাপুর উপজেলা সমিতি (রাবি, রুয়েট ও রামেক) শহরের জাফরান রেস্টুরেন্টে শনিবার (৩০ মে) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ঈদের আনন্দ আর বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়— এই দুইয়ের মিশেলে সেখানে তৈরি হয়েছিল এক অভূতপূর্ব আমেজ। একইসঙ্গে এই উৎসবমুখর মঞ্চেই আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনদের বরণ ও প্রবীণদের বিদায় সংবর্ধনা।

ভূঞাপুর উপজেলা থেকে প্রতি বছরই বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী রাবি, রুয়েট ও রামেকে ভর্তি হয়ে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাবির সমাজকর্ম বিভাগে জান্নাতুল ফেরদৌস রিয়া, ফিসারিজে সাকিব আল হাসান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রুহুল আমিন রিফাত ও ফার্মেসিতে তামিম মাশরাফী এবং রুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মো. শেখ জিহাদ ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মো. মাহতাব করিম ভর্তি হয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাদের সবাইকে ভূঞাপুর উপজেলা সমিতির পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেওয়া হয়।

নবীনদের বরণের পাশাপাশি রাবি, রুয়েট ও রামেক থেকে এবার যারা সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের সম্মানজনক বিদায় সংবর্ধনা দেয় উপজেলা সমিতি। বিদায়ী প্রবীণদের মধ্যে ছিলেন রাবির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস মীম, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্সের সাগর আলী, ফিজিক্সের মোরশেদা আক্তার সুমি, মার্কেটিংয়ের মো. তানভীর রহমান ইমন, ফাইনান্সের শফিকুল ইসলাম ও অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জাহিদ হাসান শুভ এবং রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মো. রেদোয়ান তালুকদার সাব্বির।

ভূঞাপুর উপজেলা সমিতির বর্তমান সভাপতি মো. সিজেন খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য মো. সোহানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে অ্যালামনাইরা বক্তব্য দেন। শত কর্মব্যস্ততা দূরে ফেলে, সব বাধা পেরিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সবাই। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই ও আপুদের দেখে আনন্দে মেতে ওঠে জুনিয়ররা। বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক নানা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন সিনিয়ররা। প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে গল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে বসেন তারা।

এ সময় সমিতির ইতিহাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান জুয়েল। এমনকি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং সমিতির প্রচারণা ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। এ ছাড়া সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে উপজেলা সমিতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জুয়েল।

কেবল আড্ডা আর গল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই পুনর্মিলনী। উপস্থিত সবাই একমত হন যে, এখন থেকে নিয়মিত বিরতিতে তারা এমন মিলনমেলার আয়োজন করবেন, যাতে নিজেদের অঞ্চলের মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

সূর্য যখন পশ্চিম দিগন্তে পাটে বসেছে এবং সন্ধ্যার আবছায়া নেমে এসেছে, তখনও বন্ধুদের আড্ডা থামার লক্ষণ ছিল না। তবে নিয়মের টানে বিদায় নিতেই হয়। এক বুক স্মৃতি আর অটুট বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি নিয়ে একে একে বিদায় নেন তারা। যাওয়ার সময় সবার চোখে ছিল তৃপ্তির আভা আর মুখে ছিল সেই চিরচেনা হাসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পুনর্মিলনী যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, সময় হয়তো মানুষের বয়স বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু প্রকৃত বন্ধুত্বের কাছে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র।