০৬ জুন, ২০২৬
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সিওও অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। একই কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সহ সাধারণ সম্পাদকের পদমর্যাদাসম্পন্ন।
পাপ্পু চৌধুরী বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানায়, বিগত সরকারের সময় বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় ও সাহসী মুখ। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা হিসেবে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হয়েছিল।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার দিন ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব ও জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু। তার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় তার নেতৃত্বে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে নিজ এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। সরকারের পতনের একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু বলেন, তোষামুদির রাজনীতি নয়, আদর্শিক রাজনীতির পথ ধরে এগিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ সময় রাজপথে সক্রিয় থেকে বহুবার প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু কখনো হতাশ হইনি। মানুষের ভালোবাসা ও মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগরবাসী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভাকাঙ্ক্ষীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আমাকে গভীরভাবে ঋণী করেছে।
নিজ এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পদ-পদবি বড় বিষয় নয়, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের এই ভালোবাসা ও আস্থা ধারণ করেই মা মাটি মানুষের দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে। আমৃত্যু মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চাই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বগুণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতার কারণে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পুর অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
-তথ্যসূত্র : যায়যায়দিন