০৭ জুন, ২০২৬
রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশেপাশের এলাকায় ইউক্রেন একটি ‘নজিরবিহীন হামলা’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার বৃহত্তম শহরে কিয়েভের এই হামলা ‘অবাক’ করেছে মস্কোকে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত একটি বহুজাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সমাপনী দিনে গত শনিবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্ডার দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের আকাশ থেকে ১৪০টিরও বেশি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথম শহরটিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার বাহিনী রাশিয়ার সমরাস্ত্রাগার ও একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে একে তিনি একটি ‘ন্যায্য জবাব’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ঠিক পরদিনই এই হামলা চালানো হয়।
এর আগে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি।
গভর্নর দ্রোজদেন্দো জানান, শনিবার ভোরের দিকে ইউক্রেনের এই হামলার কারণে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এতে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এই হামলায় অংশ নেওয়া একটি ইউক্রেনীয় ইউনিটের কমান্ডার জানান, রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা এখন খুবই সহজ।
ইউক্রেনের আনম্যানড সিস্টেমস ফোর্সের ৪১৩তম রেজিমেন্ট রেইডের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস বলেছেন, আমরা রাশিয়ার আকাশে এমনভাবে উড়ি, যেন এটি আমাদের নিজেদেরই এলাকা। সেখানে প্রায় কোনো প্রতিরোধই নেই। লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো মোটেও কঠিন নয়।