১৬ জুন, ২০২৬
ফ্রিল্যান্সার-নির্ভর বিজনেস সল্যুশন প্ল্যাটফর্ম বিজমেকার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ১৪–১৫ জুন তাদের সর্বশেষ ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রাম সফলভাবে আয়োজন করেছে। তরুণদের দক্ষতা চিহ্নিত করা, তা আরও বিকশিত করা এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
সম্পূর্ণ ফ্রিল্যান্সার-নির্ভর অনন্য মডেলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিজমেকার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমাতে কাজ করছে। প্ল্যাটফর্মটি সোয়াইপ-ভিত্তিক ম্যাচিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ স্থাপন করে। এই অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবধর্মী জ্ঞান ও বাজার-উপযোগী দক্ষতার পাশাপাশি নিজেদের সম্ভাবনাকে অর্থবহ ক্যারিয়ারে রূপান্তরের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনটি যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে একটি বড় তাঁবুতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলা এই প্রোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন, ১৫ জুন যবিপ্রবি অডিটোরিয়ামে বিজমেকারের প্রতিষ্ঠাতা এএসএম রাফিউল হক ‘প্যাশন টু পসিবিলিটি’ শীর্ষক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি ফ্রিল্যান্সিং খাতের বর্তমান অবস্থা, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা এবং দক্ষতা ও আগ্রহকে কীভাবে টেকসই পেশাগত সুযোগে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। সেশনে আয়োজিত ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী উপযোগী পেশা যাচাইয়ের সুযোগ পান। এছাড়াও, বিজমেকার প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে দক্ষ জনবলকে ব্যবসায়িক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি উপস্থাপন করা হয়।
বিজমেকারের প্রতিষ্ঠাতা এএসএম রাফিউল হক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিজেদের সম্ভাবনা খুঁজে পেতে এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করা। আমরা তরুণদের কেবল একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে চাই; যা তাদের জন্য প্রকৃত অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে”।
এর আগে বিজমেকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভাল ও গুলশান ক্লাবের ফ্লো ফেস্টে অংশগ্রহণ করেছে। প্রযুক্তি, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় প্রতিভাদের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে বিজমেকার কাজ করে যাচ্ছে।