ঝড়-তুফানে যে দোয়া পড়তেন নবীজি

১৮ জুন, ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনের একটি অনিবার্য বাস্তবতা। ঝড়, তুফান, অতিবৃষ্টি কিংবা বজ্রপাত এসবের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

কোরআন ও হাদিসে এমন দুর্যোগের সময় পড়ার জন্য একাধিক দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা একজন মুসলমানের ঈমান, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার প্রকাশ ঘটায়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা বালা-মুসিবতের সময় বলে নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত; এবং তারাই হেদায়তপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)

ঝড়-তুফানে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

জোরে বাতাস বা ঝড় শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা ফীহা, ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহী। ওয়া আঊযু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফীহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহী।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে আপনি একে প্রেরণ করেছেন তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যে উদ্দেশ্যে এটি প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম: ৮৯৯; সহিহ বুখারি: ৩২০৬, ৪৮২৯) 

বজ্রপাতের সময় যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

বজ্রপাতের শব্দ শুনলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়া পাঠ করতেন, اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا، اللَّهُمَّ صَيِّبًا هَنِيئًا، اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফিআ, আল্লাহুম্মা সায়্যিবান হানীআ। আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বি-গাদাবিকা, ওয়ালা তুহলিকনা বি-আযাবিকা, ওয়া আফিনা কাবলা যালিক।

অর্থ: হে আল্লাহ, উপকারী বৃষ্টি দিন। হে আল্লাহ, শান্তিময় বৃষ্টি দিন। আপনার গজব দিয়ে আমাদের হত্যা করবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না। এর আগেই আমাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমা দান করুন। (সহিহ বুখারি: ৭২১; জামে তিরমিজি: ৩৪৫০; সুনানে নাসায়ি: ৯২৭; মুসনাদে আহমাদ: ৫৭৬৩)

অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার দোয়া

অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের কষ্ট হলে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন, اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়ায যিরাবি, ওয়াবুতুনিল আওদিয়াতি, ওয়ামানাবিতিশ শাজার।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের ওপর নয়; আমাদের আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, উঁচু ভূমি, পাহাড়, উপত্যকা এবং বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। (সহিহ বুখারি: ৯৩৩; সহিহ মুসলিম: ৮৯৭)

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ইসলামের শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা, বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের ও অন্যের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ মুমিন জানে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায় সংঘটিত হয় এবং তিনিই সব বিপদ থেকে রক্ষা করার একমাত্র মালিক।