কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমলেও তীব্র হচ্ছে ভাঙন

২৬ জুন, ২০২৬

উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে গত চারদিন ধরে কুড়িগ্রামের সব কটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে ওঠানামা করছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং ভারত থেকে আসা উজানের পানি কমে যাওয়ায় তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারসহ সব নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, প্রতিটি নদ-নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। ফলে তীরবর্তী মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের ৩৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে ২০টি পয়েন্টে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। প্রতিদিন বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

অন্যদিকে, নদী অববাহিকার বিভিন্ন ফসলের মাঠ এখনো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, তার এক বিঘা জমির পটলের খেত ধরলার পানিতে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। ওই এলাকার আরও অনেক কৃষকের পাট ও সবজিসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে আছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, নদ-নদীর পানি দ্রুত কমছে, তাই কৃষকদের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। স্বল্পমেয়াদি এই বন্যায় কৃষির ক্ষতির আশঙ্কা কম। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলের পরিচর্যা করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীর পানি কমতে শুরু করেছে এবং বন্যার আশঙ্কাও কমে গেছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আপাতত বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বড় নদ-নদীগুলোর ২০টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। নদীতে স্রোত ও পানি থাকায় ভাঙনকবলিত সব এলাকায় পুরোদমে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।