২৯ জুন, ২০২৬
অনেকেরই প্রিয় তরকারির তালিকার রয়েছে উচ্ছে বা করলা। বিশেষ করে গরমের দিনে দুপুরের খাবার পাতে করলা ভাজি, করলার ঝোল খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজিটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে এই উপকারি সবজিটিই ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত করলা খেলে কী হয়, চলুন জানা যাক-
করলা বা উচ্ছের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত করলা বা করলার রস খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়। ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপানো, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।
করলায় আছে ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন। এই সবজি অতিরিক্ত খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস নষ্ট করে দেয় লিভারের কার্যক্ষমতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলা হয়।
করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সেটিভ। অতিরিক্ত করলা পাকস্থলীর ক্ষতি করে। ফলে দেখা দেয় তীব্র পেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা। এমনকি পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে। ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে। এমনকি গর্ভপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাণীদের ওপর করা কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে করলার বীজ বা রস নিয়মিত খেলে তা প্রজনন হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি পুরুষদের শুক্রাণুর উৎপাদন এবং নারীদের ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যদিও মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন, তবুও চিকিৎসকরা সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন করলার তরকারি বা ভাজা খাওয়া একদম সাধারণ এবং নিরাপদ। তবে আপনি যদি প্রতিদিন উচ্ছের রস (Bitter Gourd Juice) খেতে চান, তবে তা যেন কোনোভাবেই ৩০ থেকে ৫০ মিলিলিটারের বেশি না হয়।