নেইমার ‘সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে’ বিশ্বকাপ জেতাবে : রোনালদো

২৯ জুন, ২০২৬

দীর্ঘদিন পর ব্রাজিল দলে ফেরা নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও। তার বিশ্বাস, নকআউট পর্বে সুযোগ পেলে নেইমারই হতে পারেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ী অস্ত্র এবং পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচকদের জবাব দেবেন তিনি।

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে সোমবার জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমারের মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আর কারো নেই।

প্রায় তিন বছর আগে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এসিএল ইনজুরিতে ছিটকে পড়েছিলেন নেইমার। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর এবারের বিশ্বকাপ দলে ফিরলেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন তিনি।

ওই ম্যাচে মাঠে নেমে নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েন। তার আগে এই তালিকায় ছিলেন জালমা সান্তোস, কাফু এবং পেলে।

রোনালদো বলেন, ‘নেইমারই এই দলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনার।

সে এখন পুরোপুরি ফিট এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্রও পেয়েছে। তাই তাকে ব্যবহার করার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি, সে মাঠে নেমে সব সমালোচকের মুখ বন্ধ করে দিতে পারবে।’

২০০২ বিশ্বকাপে গুরুতর চোট কাটিয়ে ফিরে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো রোনালদো নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এমন প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা পেয়েছি।

তাই নেইমারের জন্য আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। ৩৪ বছর বয়সে তার প্রতিভা নিয়ে আর কিছু প্রমাণ করার নেই, তবে আমি চাই সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সবাইকে ভুল প্রমাণ করুক।’

যদিও এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে রয়েছেন। তবু রোনালদোর বিশ্বাস, নকআউট পর্বে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাই ব্রাজিলকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও জার্মানি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হলেও ব্রাজিলের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর সেই স্বপ্নপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন নেইমার।