২৯ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার: উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার পর এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় মঞ্চেও বিজয়ের গৌরব কেতন ওড়াল কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কুষ্টিয়া জিলা স্কুল। দেশব্যাপী ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আসরে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি সেরা দলের মধ্যে গৌরবময় সপ্তম (৭ম) স্থান অধিকার করেছে জিলা স্কুলের ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও ক্ষুরধার উদ্ভাবকদের দল।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) 'এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম'-এর আওতায় প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ও উৎসবমুখর আবহে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী, মূল্যায়ন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে কঠোর স্ক্রিনিং এবং চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে উঠে আসা দেশসেরা ১০১টি প্রতিভাবান দলের মধ্যে এই মূল পর্বের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের আধুনিক যুগোপযোগী মেধা, চমৎকার ইনোভেশন আইডিয়া এবং বিজ্ঞান প্রকল্পের অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব উপস্থাপন করে উপস্থিত বিচারকমণ্ডলীকে চূড়ান্তভাবে মুগ্ধ করে এবং দেশসেরা শীর্ষ ১০-এর তালিকায় নিজেদের নাম খোদাই করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি গ্রহণ:
সোমবার বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশসেরা শীর্ষ ১০টি বিজয়ী দলের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে গৌরবময় জাতীয় ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেন। সরাসরি সরকারপ্রধানের হাত থেকে এমন ঐতিহাসিক পুরস্কার গ্রহণ করে জিলা স্কুল দল অনন্য এক উচ্চতায় আরোহণ করল।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় চূড়ান্ত পর্বে পুরস্কার গ্রহণের স্মরণীয় মুহূর্তে কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি হিসেবে গৌরবোজ্জ্বল ম্যান্ডেট নিয়ে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা শিক্ষা অফিসার এটিএম ইউনুছ আলী। তিনি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ও পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর সাথে মঞ্চে ও অডিটোরিয়ামে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রজেক্টের সাথে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিভাবান ও কৃতী শিক্ষার্থী— মাহি, সামি ও তীর্থ, তাঁদের যোগ্য পথপ্রদর্শক ও বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক— সিনিয়র শিক্ষক মো: মারুফ হাসান ও সহকারী শিক্ষক রাজিব আহমেদ এবং প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ের এত বড় এবং সম্মানজনক একটি মহাসমাবেশে দেশসেরা সপ্তম স্থান অধিকার করার খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছানো মাত্রই সমগ্র কুষ্টিয়া জিলা স্কুল পরিবার তথা গোটা জেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর আনন্দ ও অভাবনীয় উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা পর্যায়ের মেলাতেও প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে জেলা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি লুফে নিয়েছিল কুষ্টিয়া জিলা স্কুল। সেই আয়োজনে জিলা স্কুলের তিন কৃতী শিক্ষার্থীকে 'জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থী' এবং তাঁদের সুযোগ্য মেন্টর সিনিয়র শিক্ষক মো: মারুফ হাসান ও সহকারী শিক্ষক রাজিব আহমেদ-কে জেলা পর্যায়ে ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। উপজেলা ও জেলা স্তরের সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেই ঢাকার জাতীয় মঞ্চেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখল এই দল।
বিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অর্জনে বিজয়ী শিক্ষার্থী, নির্দেশক শিক্ষকবৃন্দ ও জিলা স্কুল পরিবারকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের এই গৌরবময় অর্জন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণালী অধ্যায় যোগ করল। উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশের সেরা ১০১টি ক্ষুরধার দলের সাথে লড়াই করে দেশসেরা ১০-এর মধ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করা এবং সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের, আনন্দের ও পরম সৌভাগ্যের। এই অবিস্মরণীয় সাফল্য আমাদের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী মেধা এবং আমাদের শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও অক্লান্ত শ্রমের ফসল। কুষ্টিয়া জিলা স্কুল পরিবার আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও উদ্বেলিত। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সাফল্যের এই ধারা ভবিষ্যতেও আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের এই ঐতিহ্য বজায় রেখে কৃতী শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে আরও বড় বড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এর চেয়েও উজ্জ্বলতর ও অনন্য সাফল্য কুষ্টিয়া জেলার জন্য বয়ে আনবে।"
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে কুষ্টিয়া জেলার প্রতিনিধি হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা শিক্ষা অফিসার এটিএম ইউনুছ আলী বলেন, "জাতীয় পর্যায়ের এমন মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে সারা দেশের শত শত সেরা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে আমাদের কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সপ্তম স্থান অর্জন এবং সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ কুষ্টিয়াবাসীর জন্য এক অনন্য ও ঐতিহাসিক সম্মান। এই অবিস্মরণীয় সাফল্য প্রমাণ করে যে আমাদের মফস্বলের শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি যেকোনো জাতীয় স্তরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্য জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। আমি এই গৌরবময় প্রজেক্টের সাথে যুক্ত সকল শিক্ষার্থী, দিকনির্দেশক শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষককে জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আশা করি এই খুদে বিজ্ঞানীরা আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"
জাতীয় এই অবিস্মরণীয় গৌরব অর্জনে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সুধী সমাজ জিলা স্কুলের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে কৃতী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।