স্বামীকে হত্যার পর রান্নাঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখলেন স্ত্রী

০১ জুলাই, ২০২৬

বাড়ি থেকে মাত্র ৫-৭ মিনিটের দূরত্ব। পাশেই ছিল ডেইরি ফার্মের রান্নাঘর। অথচ সেই রান্নাঘরের মেঝে গর্ত করে ৫০ দিন ধরে পুঁতে রাখা হয়েছিল ৬৫ বছর বয়সী আলু ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেনকে। জমিজমা লিখে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ থেকে পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড ভুক্তভোগীর দ্বিতীয় স্ত্রী ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মধ্যরাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারীর ডেইরি ফার্মে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে আওলাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৯ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আওলাদ। পরে তার পরিবার সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। দীর্ঘ তদন্তের পর বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য।

বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ডেইরি ফার্মের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম রয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, আওলাদ হোসেনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রায় ৮ বছর আগে তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার শাষপুর গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফার মেয়ে রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে কোনো সন্তান না হওয়ায় প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে মানিকের সঙ্গে রানী বেগমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রানী ও মানিক আওলাদের কাছে বিপুল পরিমাণ জমিজমা লিখে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে টাকা-পয়সা ঋণ ও নেন। কিন্তু ফেরত দেননি কখনো। আওলাদ হোসেন জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের জেরেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

মামলার তদন্তে গত ৩১ মে আওলাদের বোন জামাই মোশারফ হোসেন মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ডেইরি ফার্মের কর্মচারী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ চাইনপাড়া এলাকার বোরহান বেপারীর ডেইরি ফার্মের রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত একটি কোদাল ও আওলাদের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিহতের স্ত্রী রানী বেগমের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বোরহান নামের আরও একজনকে খুঁজছে পুলিশ।