২ বছরের আগে মোবাইল চালালে কথা বলাই শিখবে না শিশু: গবেষণা

০১ জুলাই, ২০২৬

শিশু কিছুতেই মুখে খাবার তুলছে না। সহজ সমাধান হিসেবে মোবাইলে কার্টুন ছেড়ে দেন মা-বাবারা। কেউ তো আবার গর্বও করে বলেন- আমার বাবু ঠিকমতো কথা বলতে পারে না কিন্তু মোবাইল ঠিকই চালাতে জানে। বর্তমানে অসংখ্য শিশুই মুখে বুলি ফোটার আগেই মোবাইল সম্পর্কে সব শিখে যাচ্ছে। ২ থেকে ৩ বছরের শিশুরা অনায়াসে মোবাইলে ছবি তুলতে পারে, ইউটিউব খুলে ভিডিও চালাতে জানে। তবে মোবাইলের দক্ষতা শিশুর বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাঁধাগ্রস্ত করছে। এমনটাই বলছেন গবেষকরা। 

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, শিশুরা দিনভর মোবাইল ঘাঁটলে কতটা বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে সে সম্পর্কে ধারণা নেই অনেক অভিভাবকরাই। দেখা গেছে, যেসব শিশু দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইলের দিকে তাকিয়ে কাটায় তার বুদ্ধির বিকাশ হবে অনেক দেরিতে। এসব শিশু কথা বলাও শিখবে অনেক দেরিতে

স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন সরাসরি ক্ষতি করে মস্তিষ্ক, কান-সহ নানা অঙ্গের। একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে যা আরও ক্ষতিকর। এমনকি মস্তিষ্ক ও কানে ‘নন-ম্যালিগন্যান্ট টিউমার’ হওয়ার ভয়ও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন। তারা বলেছেন, বেশিরভাগ শিশু যাদের বয়স ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে তাদের ওপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। গবেষণা দেখা গেছে, যে শিশুরা দিনের বেশি সময় মোবাইল দেখে কাটায় তাদের অধিকাংশেরই মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ থমকে গিয়েছে। তারা নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও ঠিকমতো কথা বলতে শেখেনি। কেউ কেউ আবার আক্রান্ত হয়েছে অটিজমে। 

সাধারণত শিশুর মস্তিষ্কের ত্বক, কোষ এবং হাড় তুলনায় অনেক নরম ও পাতলা হওয়ায় তা প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি রেডিয়েশন গ্রহণ করে। তাই ছোটদের ক্ষেত্রে মোবাইল চালানোতে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়।

স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি শিশুর মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা এক ধরনের আসক্তি তৈরি করে। ফলে শিশু বাস্তব জগতের থেকে বিচ্যুত হতে থাকে। মনঃসংযোগের অভাব তৈরি হয়। ইদানীং সময়ে অনেক বাবা-মায়েরাই এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। 

গবেষকদের মতে, শিশুর কেবল মনোযোগ কমে এমনটা নয়, শিশু ঠিকমতো কথাও বলতে পারে না। তারা নিজের আবেগ প্রকাশ করতে পারে না। সাধারণত মোবাইল নিয়ে সেসব শিশুই ব্যস্ত থাকে যাদের বাড়িতে কেউ তার সঙ্গে খুব একটা কথা বলে না। 

তারা শিশুর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মোবাইল কিংবা ট্যাব। এতেই ব্যস্ত থাকছে শিশু। আর স্বস্তি পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সন্তানের হাজারো বায়না সামলাতে হচ্ছে না। তাকে খাওয়ানো নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। হাতে ট্যাব বা মোবাইল ধরালে নিমেষে শেষ হচ্ছে মুখের খাবার। দীর্ঘ সময়ে শান্তও থাকছে শিশু। এতেই ঘনাচ্ছে বিপদ। শিশুর বুদ্ধির বিকাশ থমকে যাচ্ছে। 

এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে মস্তিষ্কের ভারসাম্য, তেমনই অন্যদিকে ছোট থেকেই স্নায়ুর নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।