০৩ জুলাই, ২০২৬
জামালপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিদেশি ফল প্যাশন, আনারকলি বা ট্যাংক ফল। এই অঞ্চলের মাটি প্যাশন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের ভালো ফলন ও বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্যাশন ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। প্যাশন ফল চাষের জন্য পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলার কৃষি বিভাগ।
জেলার মেলান্দহ উপজেলার মলিকাডাংগা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা নোমান মাহমুদের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ ও বেগুনি রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল প্যাশন বা ট্যাংক ফল। একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই চাষ করেছেন নোমান মাহমুদ।
তিনি বলেন, চারা লাগানোর এক বছর পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিন দিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাগান থেকেই বিক্রি হচ্ছে ফলটি।
দেখতে সুন্দর, সুস্বাদু এবং ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’ পুষ্টিগুণে ভরপুর প্যাশন ফল দেখতে জেলার দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বাগানে ভিড় করেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ফল কেনার পাশাপাশি প্যাশন ফলের চারাও কিনে নিয়ে যান। অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় প্যাশন চাষের প্রতি ঝুঁকছেন জেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা।
নোমান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন বিদেশি ফল নিয়ে গবেষণা করি এবং আমার বাগানে তা পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করি। আমি প্রায় দুই বছর আগে প্যাশন ফল নিয়ে গবেষণা শুরু করি। তারপর অল্প কিছু চারা সংগ্রহ করে আমার বাগানে লাগাই এবং ভালোই ফলন পাই। এখন আমি এই ফলটি প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমার দেখা-দেখি ফলটি চাষ করার জন্য অনেকেই এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে যদি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো।’
প্যাশন ফলের চারা কিনতে আসা স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘দেশের মাটিতে এই ফল চাষ হবে, এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিলো। নোমান মাহমুদকে দেখে আমরাও এই ফলটি চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এই বাগানে এসে ফলের পাশাপাশি কিছু চারাও কিনলাম। আশা করি, সফল হব।’
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেসমিন জাহান বলেন, জামালপুরের মাটি অনেক উর্বর, তাই প্যাশন ফল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। কৃষকরা আমাদের কাছে যেকোনো সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। ফলটি চাষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি। প্যাশন চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।