০৬ জুলাই, ২০২৬
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় ইউরোপের এই দলটি। নরওয়ের এই মহাকাব্যিক জয়ের নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের প্রথম ৭৮ মিনিট খুঁজেই পাওয়া গেল না আর্লিং হালান্ডকে। ম্যাচের আগে তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া সব আলোচনাকে মনে হচ্ছিল বাড়াবাড়ি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ম্যাচ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন হালান্ড। ম্যাচের ৮০ এবং ৮৯ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত গোল করে তিনি ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে চুরমার করে দেন। পুরো ম্যাচে লড়াই করেও হালান্ডের এই জোড়া ফলার কোনও জবাব খুঁজে পায়নি সেলেকাওরা।
এই গোলেই মূলত প্রথমবারের মতো নরওয়ের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে হলান্ড ম্যাচে কত বেশি সময় ভালো খেললেন, সেটি নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তিনি কতবার ঠিক জায়গায় বল পেয়েছেন সেটি। দলকে জেতানোর জন্য পুরো ম্যাচের বদলে কয়েকটি মুহূর্ত হলেই যে চলে, সেটি মনে করেন হালান্ড নিজেও।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, অল্প কয়েকটি সুযোগ থেকেই গোল বের করে আনার সামর্থ্য তার কাছে ‘সৃষ্টিকর্তার উপহার’। পাশাপাশি এই জয়কে তিনি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জয় বলেও অভিহিত করেছেন। ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি যদি এক-দুটি সুযোগ পাই, বেশির ভাগ সময়ই সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে এটা করি, আমি নিজেও জানি না। তবে এমনটাই হয়। আসল বিষয় হলো শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা। আমি নিজেকে বলি, সুযোগ আসবেই।’
চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৭ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন হালান্ড। চার ম্যাচ খেলে তিনটিতে করেছেন জোড়া গোল এবং অন্যটিতে ১ গোল। বুটের লড়াইয়ে থাকা এই স্ট্রাইকারকে এমন ফর্মের রহস্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে ঢুকে যাওয়াটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক উপহার। ব্যাপারটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ম্যাচের বেশির ভাগ সময় ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকিয়ে টিকে থাকায় দলের দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করেছেন হালান্ড। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথাও উল্লেখ করেন, ‘আশা করি, আমার এই সাক্ষাৎকার যে ছোটরা দেখছে, তারা বড় হয়ে বুঝবে যে নরওয়ের হয়ে খেলাই জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হতে পারে।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিন বলে মন্তব্য করে হালান্ড যোগ করেন, ‘হয়তো এই দিনটাই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেবে। এখন সবার উচিত এই মুহূর্তটা উপভোগ করা। আজকের দিনটা অবিশ্বাস্য। নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। এই মুহূর্তকে আপন করে নিন, উপভোগ করুন।’