০৬ জুলাই, ২০২৬
মাঠে যখন বল পায়ে তিনি ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে কাঁপন ধরে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে গোলবন্যার রেকর্ড থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবলের সব ট্রফি—সবখানেই এখন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ডের জয়জয়কার।
কিন্তু আপনি কি জানেন, মাঠের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পেছনে লুকিয়ে আছে তার রাতের একটি অদ্ভুত অভ্যাস? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইটিভি নিউজ এর একটি প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে জানা গেছে যে হালান্ড প্রায়ই রাতে ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ আঠা বা স্কচটেপ লাগিয়ে ঘুমান। শুনতে পাগলামি বা অদ্ভুত মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে এক গভীর বিজ্ঞান এবং হালান্ডের মাঠের ভেতরে অতি-মানবিক হয়ে ওঠার আসল রহস্য।
বিখ্যাত একটি পডকাস্টে হালান্ড নিজেই তার এই অদ্ভুত অভ্যাসের কথা প্রথম বিশ্ববাসীর কাছে ফাঁস করেন। ঘুমানোর সময় মুখে বিশেষ টেপ লাগিয়ে মুখ বন্ধ রাখাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'মাউথ টেপিং'। হালান্ডের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ঘুমানোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করা এবং শরীরকে বাধ্য করা যাতে সেটি কেবল নাক দিয়ে শ্বাস নেয়। হালান্ড মনে করেন, পৃথিবীতে পারফরম্যান্স ভালো রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুম, আর ভালো ও গভীর ঘুমের জন্য নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। আর এই কারণেই তিনি ঘুমানোর আগে নিজের মুখ টেপ দিয়ে আটকে নেওয়ার এই কৌশলটি বেছে নেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং স্পোর্টস সায়েন্সও হালান্ডের এই দাবির পক্ষে কথা বলে। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে ফুসফুস অনেক বেশি কার্যকরভাবে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে, যা রক্তের অক্সিজেন প্রবাহকে উন্নত করে। হালান্ডের মতো হাই-প্রোফাইল অ্যাথলেটের মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে অবিরাম দৌড়ানোর জন্য যে স্ট্যামিনা বা দমের প্রয়োজন হয়, তা ধরে রাখতে এই অভ্যাস সরাসরি সাহায্য করে। তাছাড়া মুখ বন্ধ থাকলে নাক ডাকার সমস্যা দূর হয়, মুখ বা গলা শুকিয়ে যায় না এবং ঘুম অনেক গভীর হয়। একজন ফুটবলারের জন্য কঠোর পরিশ্রমের পর দ্রুত শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এই গভীর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।
তবে হালান্ড কেবল মুখে টেপ দিয়েই ক্ষান্ত হন না, নিখুঁত ঘুমের জন্য তিনি আরও কিছু কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। আইটিভি নিউজের রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ঘুমানোর ঠিক তিন ঘণ্টা আগে থেকেই তিনি এক বিশেষ ধরনের চশমা পরেন, যা মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির ক্ষতিকর ব্লু-লাইট আটকে দেয়। এছাড়া তার শোবার ঘরে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ওয়াই-ফাই সিগন্যাল থাকে না, যাতে একদম শতভাগ প্রাকৃতিক, ঠান্ডা ও অন্ধকার পরিবেশে তার শরীর বিশ্রাম পায়।