০৭ জুলাই, ২০২৬
ইন্টারনেটের এই যুগে প্রতিদিন আমরা যে কনটেন্ট বা রিলস উপভোগ করি, তার পেছনে রয়েছে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণের তীব্র প্রতিযোগিতা। নিজের কথাকে শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বর্তমান সময়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা প্রায়ই ইংরেজি ‘লিটারেলি’ (Literally) শব্দটির সাহায্য নেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাক্যের প্রেক্ষাপটে শব্দটির যথাযথ প্রয়োগ থাকে না।
লিটারেলি শব্দের অর্থ ও ব্যবহার
ইংরেজি ‘Literally’ শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো ‘আক্ষরিক অর্থে’। তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের কথায় বাড়তি আবেগ যোগ করতে বা রূপক অর্থে শব্দটি অনায়াসেই ব্যবহার করেন। অনেক সময় বাক্যের গঠন অনুযায়ী শব্দটির কোনো অর্থই থাকে না, তবুও অভ্যাসবশত বা প্রভাব বিস্তারের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ক্রিয়েটরদের মধ্যে এই শব্দটির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের পেছনে প্রধান কিছু কারণ রয়েছে-
আবেগ ও উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ: কথার মাঝে নাটকীয়তা আনতে বা তীব্র অনুভূতি প্রকাশ করতে ক্রিয়েটররা এই শব্দ ব্যবহার করেন। যেমন - ‘আমি তো ভয়ে মরেই যাচ্ছিলাম’-এর পরিবর্তে ‘আমি লিটারেলি ভয়ে মরেই যাচ্ছিলাম’ বললে কথার ওজন অনেক বেশি মনে হয়।
অনর্গল কথা বলার সময় অনেকেই উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পান না।
দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ভিডিওগুলোতে প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই দর্শককে ধরে রাখা জরুরি। ক্রিয়েটররা শব্দটির মাধ্যমে বোঝাতে চান যে, তাদের বলা ঘটনাটি একটুও বাড়িয়ে বলা নয়, বরং সেটি সম্পূর্ণ সত্য।
গ্লোবাল ট্রেন্ড ও ইনফ্লুয়েন্সার কালচার: বিশ্বজুড়ে পপ কালচারে এই শব্দের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে নিজেদের আধুনিক ও ট্রেন্ডি হিসেবে উপস্থাপন করতে দেশীয় ক্রিয়েটররাও অবলীলায় এটি অনুকরণ করছেন।
শব্দভান্ডারের অভাব বা অভ্যস্ততা: অনর্গল কথা বলার সময় অনেকেই উপযুক্ত শব্দ খুঁজে পান না। তখন বিরতিহীনভাবে কথা চালিয়ে যেতে অবচেতনভাবেই তারা শব্দটি ব্যবহার করেন।
মজার বিষয় হলো, ‘লিটারেলি’-এর পাশাপাশি আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্তমানে ক্রিয়েটরদের মুখে আরেকটি দেশি শব্দগুচ্ছের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। কথার শুরুতেই অনেক ক্রিয়েটরকেই এখন অবলীলায় বলতে শোনা যায়‘ভাইরে ভাই!’