কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু

০৮ জুলাই, ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট একযোগে সচল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ইউনিটগুলো থেকে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের  ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর (ওয়াটার লেভেল) ক্রমাগত বাড়ছে। পানির ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে একসাথে চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ৫টি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র  সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে ​১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৩২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৪ মেগাওয়াট, ​৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ​৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ২৫ মেগাওয়াট করে মোট ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। 

এদিকে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯.৮৬ ফুট মিনস সি লেভেল (MSL)। তবে রুলকার্ভ অনুযায়ী বছরের এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট মিন সি লেভেল। উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট মিনস সি লেভেল।

প্রসঙ্গত কাপ্তাই হ্রদে পানির তীব্র স্বল্পতার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে চরম সংকটে ছিল কেন্দ্রটি। বাধ্য হয়ে কখনো মাত্র ১টি  ইউনিট চালু রেখে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার (৭ জুলাই) ৩টি ইউনিট এবং আজ মঙ্গলবার সকালে ৪টি ইউনিট চালু করা হয়। সবশেষ আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৫টি ইউনিটই একযোগে সচল করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা এই ১২ ঘণ্টায় ২০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হযেছে। যাকে অতি ভারি বর্ষণ বলছেন তারা।