০৯ জুলাই, ২০২৬
আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক (শেয়ার-বেজড) ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। একই সঙ্গে সেবা সহজীকরণ ও হয়রানি কমাতে ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজউক ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং বিস্তারিত এলাকা পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে উদ্ভূত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপের বিভিন্ন বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে দেখা দেওয়া সমস্যাগুলো তুলে ধরে বাস্তবসম্মত সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বৃদ্ধি, সেটব্যাক সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপনের বাস্তবতা, প্লটের আকার ও অবস্থানভেদে নীতিমালার নমনীয় প্রয়োগ এবং নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয়ও বাড়ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় রিহ্যাব নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, অগ্নি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে FAR বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া ছোট আকারের প্রকল্পে STP স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ৫ কাঠা বা তার কম জমির প্রকল্পে এ শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, আবাসন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে অর্পণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিহ্যাব নেতারা জানান, দেশের আবাসন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টির বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। তাই খাতটির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিনিয়োগবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভা শেষে রাজউক ও রিহ্যাব দেশের স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। পাশাপাশি আবাসন খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।