বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

১১ জুলাই, ২০২৬

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা। বসলেন অনশনে। সঙ্গে নিয়ে আসলেন বিয়ের কাবিননামা। বিষয়টি টের পেয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা প্রেমিক। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাজুড়ে শুরু হয় হইচই।

৫ বছরের প্রেম। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি। শেষমেষ প্রেম গড়ায় বিয়েতে। কিন্তু বিয়ের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কপালে জোটেনি স্ত্রীর মর্যাদা। পরে বাধ্য হয়ে স্বীকৃতির দাবি নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে হাজির ৩০ বছর বয়সি রাণী আক্তার। অভিযুক্ত স্বপন বিভিন্ন এলাকায় মিনিট্রাক ভাড়া দিয়ে জীবিকা চালান। এদিকে অভিযোগ পেলে মেয়েটিকে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রাণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় পাশের মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের। দু’জনের সম্মতিতে ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেতের মেরাদিয়া এলাকার কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে রাণীকে বিয়ে করেন স্বপন। বিয়ের পর স্ত্রীর স্বীকৃতি চান রাণী। কিন্তু নানা কারণে টালবাহানা শুরু করেন প্রেমিক। একপর্যায়ে বিষের বোতল হাতে নিয়েন শনিবার দুপুরে স্বপনের বাড়িতে হাজির প্রেমিকা। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার হুমকি তার। প্রেমিকার অনশন বিষয়টি এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। টেনে হে চড়ে মেয়েটিকে বাড়ির বাহিরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুরু হয় দুইপক্ষের উত্তেজনা। এ বিষয়ে মুখ খুলতেও চান না এলাকাবাসী। এদিকে কোনো অবস্থাতেই মেয়েটিকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ স্বপনের পরিবার। প্রয়োজনে স্বপনকে বাড়িছাড়া করার কথাও জানান তারা।

ভুক্তভোগী রাণী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি স্বপনের কাছে শুধু স্ত্রীর মর্যাদা চাই। অন্যকিছু চাই না। নারী হিসেবে এই অধিকারটুকু সবাই যদি সমর্থন করে তাহলে আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবো আর যদি স্বপন আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করে, মর্যাদা না দেয় তাহলে আমি বিষপান করে মরে যাবো।’
স্বপনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, বিয়ে করছে অনেক আগে। কিন্তু আমরা জানি এখন। এটা কিছুতেই মেনে নেবো না। এ বিয়ে আমরা মানি না। মেয়েটি অনেক খারাপ। শুনেছি কয়েকবার পেটের বাচ্চা নষ্ট করেছে। প্রয়োজনে স্বপনকে বাড়িতে আর কোনোদিন ঢুকতেই দেবো না। তবুও ওই খারাপ মেয়েকে ঘরে তুলে নেবো না, আর পুত্রবধূ হিসেবেও মানি না।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মেয়েটির সাথে যদি কোনো অন্যায় করে, আর সেই বিষয় যদি মেয়েটি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়দিয়া শাবাব বলেন, মেয়েটিকে বিয়ে করেছে দুই বছরে বেশি সময় হয়েছে। সে-হিসেবে ওই নারী স্বপনের স্ত্রী? অবশ্যই স্বপনকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে হবে। তা না হলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত স্বপনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'