ঝিনাইদহে তিন দিনে ৫ গরু চুরি

১২ জুলাই, ২০২৬

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তিন দিনে উপজেলার তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন কৃষক ও খামারিরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও চোর চক্রকে ধরতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী ও একটি বাছুরসহ তিনটি গরু চুরি হয়। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রাম থেকে আরও একটি গরু চুরি হয়। এর আগের দিন ৯ জুলাই ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চলাচলের দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিউল ইসলাম বলেন, তিনটি গরুই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলতো। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। আইয়ুুব হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি।

কিন্তু এক রাতে চোরেরা সব চুরি করে নিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে গরু পালন ছেড়েই দিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চোরচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার জন্য অনেক এলাকায় গ্রামবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।

এর আগে গত ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে ২৬ জুন দিবাগত রাতে আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু, ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে একটি ষাঁড় গরু এবং ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলীর তিনটি গরু চুরি হয়।

২৫ জুন রাতে ভাদঘারা গ্রামের বাসিন্দারা গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে গরু চুরির কোনো আলামত না পাওয়ায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গরু চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।