১২ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বিএনপি। ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে দলটি। এ ছাড়া তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্ব নির্বাচনের নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাত ৮টা থেকে প্রায় পৌনে ১০টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে। এরপর তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। নতুন এই 'বটম-আপ' পদ্ধতির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো আরও গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নিয়েছে বিএনপি।
দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, নতুন ব্যবস্থায় জেলা নেতারা থানা কমিটি, থানা নেতারা ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন নেতারা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের তদারকি করবেন। তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে।
সাংগঠনিক পুনর্গঠন তদারকিতে একটি 'মনিটরিং অ্যান্ড ডিজাইন কমিটি' গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুরুতে ছোট একটি কোর টিম দায়িত্ব পালন করবে, পরে এর পরিধি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কাউন্সিলের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন অঞ্চল সফর করবেন।
সূত্র জানায়, কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি এবং প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে বিএনপির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও।
বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দলীয় প্রতীক ছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।