১২ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় ফল কাঁঠাল। যেমন মিষ্টি, তেমন রসালো। তাই অনেকেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই ফল। কাঁঠাল খাওয়ার পর সাধারণত এর বিচি ফেলে দেওয়া হয় না। রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ভর্তা থেকে শুরু করে তরকারি বিভিন্ন উপায়ে এটি খাওয়া যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই কাঁঠালের বিচি কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারি?
কাঁঠালের বীজ খেলে স্বাস্থ্যের কী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে? চলুন জানা যাক-
১. কাঁঠাল বীজের মধ্যে আছে জ্যাকালিন (লেকটিন) নামের একটি প্রোটিন। এই প্রোটিন শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। কারণ এর মধ্যে পুষ্টিগুণকে নষ্ট করে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। ফলে শরীর যা পুষ্টি পাবে, তার থেকে বেশি পুষ্টিগুণ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়। অর্থাৎ অতিরিক্ত কাঁঠালের বিচি খেলে যতটুকু না পুষ্টি মিলবে, তার চেয়ে বেশি পুষ্টি হারাবে শরীর।
২. জ্যাকালিনের আরও বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা। এই প্রোটিন পাকস্থলির অভ্যন্তরীণ গঠনেরও ক্ষতি করতে পারে। পাকস্থলি আদতে একাধিক স্তরের একটি অঙ্গ। এর ভেতরের স্তরটি ক্ষয়ে যেতে পারে লেকটিন বা জ্যাকালিন প্রোটিনের কারণে।
৩.পেটের নিজস্ব একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খাবারের সম্ভাব্য বিষক্রিয়াকে প্রতিহত করে। বিষক্রিয়ার প্রভাবকে নষ্ট করে দেয়। পেটের এই অনাক্রম্যতা তৈরি হয় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারণে।
কিন্তু কাঁঠালের বীজ বেশি খেলে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আক্রান্ত হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা নষ্টও হয়ে যেতে পারে।
নাহ, তেমনটা মোটেও নয়। কারণ যাদের হজমশক্তি বেশি, তাদের এমন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবুও সতর্ক থাকতে কাঁঠালের বীজ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। কাঁঠালের বীজ খেলেই যদি পেটে ব্যথা করে তাহলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।