১৩ জুলাই, ২০২৬
নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে নেত্রকোনা শহরের জয়নগর এলাকায় অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সজীব মিয়া শহরের মালনী আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় পিকআপ চালক।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় গ্যাসজনিত ব্যাথা নিয়ে সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজীবের মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের ডা. মাজহারুল আমিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর দিয়ে কার্যক্রম চলছিল। হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সজীব নামে একজন রোগী এলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জরুরি ভিত্তিতে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগীর সঙ্গে দুজন মহিলা ছিলেন। তারা রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান। পরে উত্তেজিত রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেন।