মানব পাচারের মামলায় তিন ভাইয়ের ১৯ বছর, বোনের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

১৩ জুলাই, ২০২৬

 

ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পৃথক ধারায় তিন ভাইকে ১৯ বছর করে এবং তাদের বোনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে চার আসামিকে ৬ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সৌদি প্রবাসী তিন ভাই পলাতক ছিলেন

তবে দণ্ডপ্রাপ্ত বোন রেশমা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পানবাড়িয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাশেদ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, টিপু হাওলাদার এবং তাঁদের বোন রেশমা বেগম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আহিদা খাতুনের স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি। আসামিরা তাঁকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

পরে শহিদুল ইসলাম ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পরিশোধ করলে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আহিদা খাতুন চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কাউনিয়া থানা-পুলিশ তদন্ত শেষে চার ভাই-বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন। আদালত অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত রেশমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

একই সঙ্গে পলাতক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।