গুজব ও উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হচ্ছে : ধর্মমন্ত্রী

১৩ জুলাই, ২০২৬

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, তরুণ সমাজকে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন থেকে দূরে রাখতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার আংশিক এলাকায় তরুণদের উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওই অঞ্চলের সামাজিক শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে নানামুখী সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদগুলোকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়ন ও উগ্রবাদ প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্থানীয় আলেম, ওলামা ও খতিবদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় নিয়মিত সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ধর্মীয় সেমিনার ও সম্প্রীতি সভার মাধ্যমে গুজব ও উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি সমাবেশও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, আগামীতে সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও সক্রিয় সহযোগিতায় এই ধরনের সচেতনতামূলক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও বেগবান করার পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পুরোহিত ও সেবাইতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ছাত্র-যুবাদের জন্য নীতি-নৈতিকতাবিষয়ক কর্মশালা নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।