১৪ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ অনুযায়ী দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। তবে, তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত। বর্তমানে প্রতি ১ লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন।
সোমবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ ঘাটতি পূরণে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে দেশের প্রধান বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শসেবা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। যদিও মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এখনো হৃদরোগ ও ক্যান্সার শীর্ষে রয়েছে।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে 'মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮' প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক পরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রাম-এর আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম- এই ১০ জেলায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ- এই চার জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিশ্বের নির্বাচিত ৯টি দেশের একটি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় করে জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।