১৪ জুলাই, ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভুয়া পুলিশ সেজে মহাসড়কে ডাকাতির অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, বগুড়া জেলার বড় রেললাইন হিন্দু পাড়ার মানিক চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র (৩৩) এবং গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি থানার আমবাগ জয়ের টেক এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে শুভ (২৮)।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) দিনগত রাতে গাজীপুর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ধারাবাহিক এই অভিযান পরিচালনা করে।
জানা যায়, চলতি বছর গত ২৯ এপ্রিল ভোর ৪টার দিকে উপজেলার নওহাটা থেকে মহাদেপুরগামী পাকা রাস্তায় একদল দস্যু প্রাইভেট কার নিয়ে পুলিশের রিফ্লেটিং ভেষ্ট পরে এবং লেজার লাইট ব্যবহার করে সিগন্যাল দিয়ে একটা অটোরিকশা থামায়। এরপর চালক ও এক যাত্রীকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে চোখ-মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। অপর ডাকাত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে অটোচালক ও যাত্রীকে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি এলাকায় নিয়ে ফেলে দেয়।
ঘটনার পর মহাদেপুর থানায় একটি মামলা হলে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ডাকাত দলের অন্যতম হোতা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার শিমুল বাড়ি এলাকার আজাদুলের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে প্রায় দেড় মাস আগে গাইবান্দা জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামি আব্দুর রহমান ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার অভিযান চালানো হয়।
মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসে এ ঘটনার পর প্রথমে আব্দুর রহমান ওরফে শাওন ওরফে স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল। কিন্তু আসামিরা বারবার পালিয়ে যেত। তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টার পর অবশেষে গত ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর থেকে দুই ডাকাত খোকন ও শুভকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারের পর তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশ পরিচয় মহাদেবপুরে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আসামি খোকন চন্দ্র আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।