১৫ জুলাই, ২০২৬
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) ও জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে চালানো এই ‘দমনপীড়নমূলক’ ও বিধ্বংসী হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এই হামলার পরপরই আইআরজিসি জর্ডান ও কুয়েতের জনগণকে তাদের দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি করেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে এক শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। এতে ওই ঘাঁটির প্রধান কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র), নেভাল সাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র), বিশাল সামরিক গুদাম ও জ্বালানি ট্যাংকগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আইআরজিসি এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের একটি ‘ক্রাশিং রেসপন্স’ বা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে অভিহিত করেছে।
বাহরাইনের পাশাপাশি জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও ইরান বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘নাসর ২’ (Nasr 2)-এর ষষ্ঠ পর্বের অংশ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিখুঁত হামলায় আজরাক বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন এফ-১৫, এফ-১৬ ও অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ফাইটার জেটের একাধিক শেল্টার বা আশ্রয়স্থল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিক ও নজিরবিহীন হামলার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তা পাঠিয়েছে। জর্ডানের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি তাদের দেশ থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি চিরতরে অবসান ঘটানোর আহ্বান জানায়।
ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, জর্ডানের সাধারণ মানুষের উচিত হবে না এই পবিত্র ভূমিকে অন্য কোনো মুসলিম দেশের ওপর হামলার প্ল্যাটফর্ম বা উৎক্ষেপণ বিন্দু হিসেবে মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া। জর্ডানের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলে, মার্কিন সেনাদের বহিষ্কার করতে এবং সে দেশে থাকা আমেরিকার সমস্ত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে প্রতিটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত।
একই ধরনের উস্কানিমূলক ও জোরালো বার্তা পাঠানো হয়েছে কুয়েতের জনগণের কাছেও। কুয়েতের ‘শ্রদ্ধেয় ও উদার’ জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে।
কুয়েতের নাগরিকদের প্রতি মার্কিন সব অবকাঠামোয় আঘাত হানার অনুরোধ জানিয়ে ইরান বলেছে, মার্কিন দখলদারদের ঘাঁটি থেকে ইসলামিক ভূমিকে মুক্ত বা স্বাধীন করার এখনই উপযুক্ত সময়।