১৭ জুলাই, ২০২৬
সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে বিকেলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি এই সিরিজে একের পর এক কঠিন হারের যন্ত্রণা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল সফর। পরে ওয়ানডে সিরিজটাও ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, প্রথম দুই ওয়ানডেতেই পরাজয়। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হেরেছে টাইগাররা।
দলের মূল অধিনায়ক লিটন দাস নেই। বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমানও নেই। তবে জিম্বাবুয়ের সাথে তো যেকোনো দিনেই বাংলাদেশের জেতা উচিত। মুশকিল হচ্ছে সেই কাজটাই করতে পারছে না বাংলাদেশ দল। টানা হারে দলের আত্মবিশ্বাসও ঠেকেছে তলানিতে।
বাংলাদেশের বোলিং গত কিছুদিনে ভালো করলেও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিছুটা বিবর্ণ ছিল। চ্যালেঞ্জিং উইকেটেও ১৭০ রান তুলে ফেলে জিম্বাবুয়ে। পরে ব্যাট হাতে যে রান তাড়া করতে পারেনি টাইগাররা। ফর্মের তুঙ্গে থাকা নাহিদ রানা আগুনে বোলিং করেছিলেন প্রথম ম্যাচেও। তবে শেষ ওভারে খরচা করেছেন ১৮ রান। যেখানেই ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে বের হয়ে যায় অনেকখানি। পরের ম্যাচে জিতে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই জায়গায় ভালো করা চাইই চাই।
বোলিং ইউনিটে পরিবর্তন আনতে পারে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। নাসুম আহমেদকে বসিয়ে খেলানো হতে পারে রিশাদ হোসেনকে। বাড়তি ব্যাটার খেলাতে চাইলে খেলানো হতে পারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও। তবে মোসাদ্দেক ফিরলে একাদশ থেকে শেখ মেহেদী হাসানের বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। পেস ইউনিটে সুযোগ দেওয়া হতে পারে আবদুল গাফফার সাকলাইনকে। সেক্ষেত্রে একাদশের বাইরে চলে যেতে পারেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
টাইগার ব্যাটারদের সংগ্রামের গল্পটা বহু পুরোনো। প্রথম ম্যাচেও যে দেখা গেছে দু চোখ ভরে। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটাররা ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে কপালে শনি আছে বাংলাদেশের। এই ম্যাচ যে ডু অর ডাই। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা ইয়াসির আলী চৌধুরীর ঝলমলে ফিফটি আশার আলো। তবে বাকিরা কেউ যে ২০ রানও করতে পারেননি তা সমানভাবে চিন্তার কারণও। ইয়াসিরের সামনে ম্যাচ জিতিয়ে আসার সুযোগও ছিল, তবে কাজে লাগাতে পারেননি। বাকিরাও কেউ জয়ের নায়ক হতে পারেননি। চিন্তা আছে সব দিকেই।
টপ অর্ডারের ব্যাটিং বেশ কিছুদিন ধরেই ভোগাচ্ছে দলকে। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মত এবারও দলে নেই সবচেয়ে বড় ভরসা লিটন দাস। তর্কসাপেক্ষে যিনি টি-টোয়েন্টি দলের সেরা ব্যাটারও। বাকিরা মিলে যত ভালোই করুক, লিটনের অভাব আর পূরণ হচ্ছে না। সিরিজে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততেই হবে আর সেক্ষেত্রে লিটনের অভাব তো পূরণ করাই লাগবে বাংলাদেশকে।
একাদশে মোসাদ্দেক ফিরলে ব্যাটারদের কাউকেও বসানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে একাদশের বাইরে চলে যেতে পারেন নুরুল হাসান সোহান, তখন কিপিং গ্লাভস উঠতে পারে পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে।
একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :
বাংলাদেশ :
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), ইয়াসির আলি চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত/শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন/নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
জিম্বাবুয়ে :
ব্রায়ান বেনেট, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডিয়ন মেয়ার্স, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), রায়ান বার্ল, মিল্টন শুম্বা, তাসিঙ্গা মুসেকিওয়া, ক্লিভ মাদান্দে (উইকেটরক্ষক), ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি।