চরফ্যাশনে বিধবাকে পিটিয়ে হাত-বুকের হাড় ভাঙার অভিযোগ, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩

১৯ জুলাই, ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ওই নারীর বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার তিন দিন পর শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের ছেলে আল আমিন পাঁচজনের নামে চরফ্যাশন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত কালাম মাঝিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কালাম মাঝি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে রহিমা বেগম সন্তানদের নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন কালাম মাঝি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত বুধবার সকালে বিক্রির জন্য নারিকেল পাড়তে গেলে কালাম মাঝি তার ছেলে জাকির, জিহাদসহ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রহিমা বেগমের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হলে তার বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগমের ছেলে আল আমিন রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সংবাদকর্মীদের বলেন, আমার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কালাম মাঝি আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। বুধবার নারিকেল পাড়ার সময় তারা আমার মাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। আমার মা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, রহিমা বেগমকে মারধরের ঘটনাটি সত্য।

চরফ্যাশন থানার ওসি ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত কালাম মাঝিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।