দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য

১৯ জুলাই, ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। দপ্তর সমূহের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী-

 চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিস ও জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিস বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত জরুরি বার্তা প্রচার, বন্যা/ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলাসহ অন্যান্য জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখন বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনো ফিরেনি। খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা ও আক্রান্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৭৪। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোনো এলাকায় পাহাড়ধস/ভূমিধস এর ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে।  

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহতভাবে চলছে ৷ 

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বান্দরবনে বর্তমানে দূর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহতভাবে করছে।

সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিস এবং সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাত বাড়ায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ প্রধান নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার নীচে প্রবাহিত হলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার বা বড় বা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা নেই তবে নদীসংলগ্ন কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান। সুনামগঞ্জ জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বাড়ায় নদ-নদীর পানি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলাসহ মোট তিনটি উপজেলা খোয়াই নদী ভাঙনে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টি কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় এবং কোনো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ১৫ টি ইউনিয়ন। এছাড়া, কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা গিয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে।  জেলা তথ্য অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।