২২ জুলাই, ২০২৬
বন্ধ ঘরের দরজা। আর বাইরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধ।
সেই দুর্গন্ধ ধরে এগোতেই বেরিয়ে এলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উচ্ছ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার করার অন্তত দুই দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মেসের অন্য বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরেই উচ্ছ্বাসের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে ঘরটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে সবার সন্দেহ হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের একটি দল বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে উচ্ছ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।’
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল বলেন, ‘মরদেহের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’