সহজে করা যায় এমন ৬ নেক আমল

২২ জুলাই, ২০২৬

প্রিয়নবীর (সা.) হাদিসে এমন অনেক আমলের কথা বলা হয়েছে, যা সম্পন্ন করতে সময় বা কষ্ট একেবারেই কম লাগে। আমাদের ব্যস্ত জীবনে মাঝে মধ্যেই কিছুটা অবসর সময় মেলে। যেমন বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক মিনিট কিংবা লিফটে কাটানো আধা মিনিট সময়। এই সময়গুলোতে হাদিসে বর্ণিত সহজ কিছু আমল করতে পারি আমরা। চলুন দেখে নেওয়া যাক কিছু সহজ আমল সম্পর্কে :

অন্যকে সাহায্য করা
আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মুমিনের জাগতিক দুঃখ-বেদনা দূর করে তবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দুঃখ-বেদনা দূর করবেন। যদি কেউ কোনো কষ্টগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করে তবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার কষ্ট লাঘব করবেন । যদি কেউ কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি গোপন করে তবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন। যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে ততক্ষণ আল্লাহ তার সাহায্য করতে থাকেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯) 

হাসিমুখে কথা বলা
আবু জার গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমার ভাইয়ের সামনে হাসি মুখে আগমন করা সদকা, নেক কাজের নির্দেশ, খারাপ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা তোমার জন্য সদকা, পথহারা প্রান্তরে কোন মানুষকে পথ বলে দেওয়া, কোন অন্ধ বা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মানুষকে সাহায্য করা সদকা, পথের কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেওয়া, নিজের বালতি থেকে অন্য কোন ভাইয়ের বালতিতে পানি দিয়ে ভরে দেওয়া তোমার জন্য সদকা। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬ )

যেসব সহজ আমলে বেশি সওয়াব
হাসি সংক্রামক। আপনি কারো দিকে তাকিয়ে হাসলে আপনার নিজের ভেতর যেমন ভালো লাগা কাজ করবে, তেমনি সামনের মানুষটির মনও ভালো হয়ে যাবে। অন্যকে দেখে মুচকি হাসি দেওয়া বর্তমানে এমন এক উপেক্ষিত সুন্নাহে পরিণত হয়েছে যে, পথে চলার সময় দুজন মুসলিমের দেখা হলেও অনেকে চোখাচোখি এড়ানোর চেষ্টা করেন। আমাদের এই অভ্যাস বদলে ফেলা উচিত। সামান্য আন্তরিক হাসি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, যা ভালো কাজের একটি সুন্দর ধারাবাহিকতা তৈরি করবে।

ছোট ছোট জিকির করা
এমন অনেক জিকির আছে যেগুলোতে একেবারেই কম সময় লাগে, কিন্তু এই জিকিরের সওয়াব ও আত্মিক উপকারিতা অনেক বেশি। দৈনন্দিন জীবনে এই জিকিরগুলোর চর্চা বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। যেমন:

সিঁড়ি বা লিফটে ওপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার এবং নিচে নামার সময় সুবহানআল্লাহ বলা।
যেকোনো কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলা।
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠ করা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর একটির সন্ধান দেব না? তিনি বললেন, অবশ্যই দিন। মহানবী (সা.) বললেন, তা হলো লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
ঘন ঘন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ জিকির করা।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে উঠে দোয়া পাঠ করা।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।
খাবার অপচয় না করা

খাবার ফেলে দেওয়া থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকা উচিত। মহানবী (সা.) তার সাহাবিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, খাবারের কোনো অংশ নিচে পড়ে গেলে ময়লা পরিষ্কার করে তা খেয়ে নেওয়া উচিত এবং তা শয়তানের জন্য রেখে দেওয়া ঠিক নয়। 

আমরা প্রতিদিন কী পরিমাণ খাবার নষ্ট করি এবং বিশ্বে কত মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমাতে যায়, তা একটু চিন্তা করা প্রয়োজন। তাই খাবার তৈরির সময় এমনভাবে পরিকল্পনা করা উচিত যেন অপচয় না হয়। আর অতিরিক্ত খাবার থেকে গেলে তা অন্য কোনো অভাবী মানুষকে দেওয়ার কষ্টটুকু স্বীকার করা উচিত।

বাবা-মায়ের জন্য প্রতিদিন ছোট কিছু করা
আপনার মা-বাবা যদি বেঁচে থাকেন, তবে বুঝে নিন জান্নাতে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ আপনার সামনে খোলা রয়েছে। প্রতিদিন তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ছোট হলেও কিছু একটা করুন। আর তারা যদি বেঁচে না থাকেন, তবে প্রতিদিন তাদের জন্য দোয়া করুন। তাদের প্রতি আপনার এই দায়িত্বটুকু পালন করা উচিত।

প্রতিদিন কোরআনের একটি আয়াত মুখস্থ করা
প্রতিদিন কোরআনের মাত্র একটি আয়াত মুখস্থ করতে খুব সামান্য সময় লাগে। সকালে নাশতা করার সময়ও  করা সম্ভব। স্মার্টফোনের প্রসারের কারণে কোরআন শেখা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। প্রতিদিন একটি করে আয়াত মুখস্থ করলে মাসে ৩০ আয়াত শেখা সম্ভব, যা সুরা মুলকের সমান।