২৩ জুলাই, ২০২৬
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচি শেষে আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে ‘জুলাই জজবা’ নামে একটি মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার সন্ধ্যায় শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বর থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে, সেটি অনুসরণ করে ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনা, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীসহ যাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিন। তা না হলে বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে, আপনাদেরও পালানোর জায়গা থাকবে না।
তারা আরও বলেন, ভারতে জনতার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, আমরা সেটিকে যৌক্তিক মনে করি। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। পৃথিবীর অনেক শাসকের ভাষা ও আচরণ যেন একই রকম। কেউ আন্দোলনকারীদের ‘তেলাপোকা’ বলে, কেউ ‘ফার্মের মুরগি’ বলে। অথচ এই তথাকথিত তেলাপোকা ও ফার্মের মুরগিরাই একদিন তাদের শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, শহীদ ওসমান হাদির একটি ঐতিহাসিক উক্তি ‘আমরা আমাদের শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ চাই।’ আমরা মনে করি, পৃথিবীর কোনো ভূখণ্ডের জনগণ আমাদের শত্রু হতে পারে না। আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা মজলুমের পক্ষের শক্তি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানুষ নির্যাতিত হবে, যে প্রান্তেই বিপ্লবীরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে দাঁড়াবে, সেখানে বাংলাদেশের বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে আমাদের সংহতি থাকবে। বিপ্লব কখনো সংখ্যায় বিচার করা হয় না।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, ভারতের সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে। একই সঙ্গে ভারতের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই, তাদের দেশ যেন গণহত্যাকারীদের আশ্রয়স্থল না হয়। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির সঙ্গে তারাও সংহতি জানাক।’
সমাবেশে ২৪ জুলাই ‘জুলাই জজবা’ নামে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জুলাইয়ের জজবা ধারণকারী জুলাইপন্থি সব শক্তিকে নিয়ে আগামী ২৪ জুলাই শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ‘জুলাই জজবা’ নামে একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি সরকার বলেন, ভারতে পূর্বেও প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানি না, সামনের দিনে কোনো সাম্প্রদায়িক বয়ান তৈরি করে এই আন্দোলন দমন করা হবে কি না। তবে আন্দোলন দমন হলে সেখানে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মুসলমানদের ওপর কী ধরনের নির্যাতন নেমে আসতে পারে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমাদের নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তাদের আধিপত্যবাদী নীতির সমালোচনা আমরা করেছি এবং করব। কিন্তু ভারতের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। সেখানে যে মানুষই নির্যাতিত হবে, যে-ই জুলুমের শিকার হবে, তাদের প্রত্যেকের প্রতিই আমাদের সংহতি থাকবে।