স্বাধীনতার পর আজও ভরিপাশা গ্রামে নির্মাণ হয়নি পাকা সড়ক

২৪ জুলাই, ২০২৬

দেশজুড়ে উন্নয়নের নানান গল্প। মানুষের জীবনমানেও এসেছে পরিবর্তন। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র আজ আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছে গেছে। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের চিত্র, যেন ভিন্ন এক বাস্তবতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামে নির্মাণ হয়নি কোনো পাকা সড়ক। ফলে প্রতি বর্ষায় প্রায় ১২ হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যদিনের চলাচল—সব ক্ষেত্রেই নিত্যসঙ্গী দুর্ভোগ।  

উপজেলা সদর থেকে খুব বেশি দূরে নয় ভরিপাশা গ্রাম। অথচ বর্ষা এলেই গ্রামের কাঁচা সড়কগুলো কাদা আর পানিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন নদী নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে প্রথমে নৌকায় নদী পার হতে হয়। এরপর সড়কপথে যেতে যেতে অনেক সময় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু ঘটে। এদিকে, প্রতিদিন কাদামাখা পথে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, পায়ে ঘা হওয়া এবং  বৃদ্ধ ও শিশুদের পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত।

জানা গেছে, গ্রামটিতে রয়েছে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে স্কুল-কলেজে যায়। এছাড়া বর্ষাকালে অনেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।

অপরদিকে, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও সীমিত বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, এই সুযোগে এলাকায় মাদক কারবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের থেকে সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোট শেষ হলে, কোনো উন্নয়নের উদ্যোগ নজরে আসে না। 

স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, মাত্র কয়েক কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ হলেই বদলে যেতে পারে পুরো এলাকার চিত্র। সহজ হবে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, নিরাপদ হবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বাড়বে কৃষিপণ্য পরিবহনের সুযোগ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।

ভরিপাশার মানুষের দাবি, উন্নয়নের হিসাব-নিকাশে আর পিছিয়ে থাকতে চান না তারা। পাঁচ দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি পাকা সড়কই পারে তাদের জীবনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটাতে। দ্রুত কিছু উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্দ্যোগ গ্রহন করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।  

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।ইতোমধ্যে ওই এলাকার বিষয় খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ইউনিয়নের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ইটের সোলিং সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।  সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।