২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে মানিকগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে দেখা দিয়েছে তীব্র ঘাট সংকট। ফলে যানবাহন চালক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে বর্তমানে কয়েকটি ঘাট অচল হয়ে পড়েছে। পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে ৩ নম্বর ঘাটের। ফলে সচল ঘাটগুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, নদীভাঙনের কারণে স্থানান্তর করা লঞ্চঘাটেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। নিচু ও অস্থায়ী অবকাঠামোর কারণে পানি বাড়লেই তলিয়ে যাচ্ছে ঘাটের সংযোগ সড়ক। যাত্রী ছাউনি, টয়লেট ও নিরাপদ ওঠানামার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠানামা করছেন।
ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যানবাহনের চালকরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। পাটুরিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ ট্রাকচালক আবু সিদ্দিক বলেন, “একটা গাড়ি ফেরিতে তুলতেই অনেক সময় লাগছে। সচল ঘাট কম থাকায় সিরিয়াল এগোতেই চায় না। এটা আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টের।”
একই অভিযোগ করেন বাসচালক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “যাত্রীদের চাপ সামলানো যাচ্ছে না। ঘাটে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। ঘাট সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে।”
শুধু যানবাহন নয়, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরাও। একটি পরিবহনের যাত্রী রেহানা বেগম বলেন, “ঘাটে বসার জায়গা নেই, টয়লেটেরও ব্যবস্থা নেই। বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে প্রতি বর্ষাতেই এ ধরনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।”
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সালাম মিয়া জানান, নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি ঘাট বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় কাজ করছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯টি ফেরি ও ৩২টি লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিদিন এই রুট দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩ থেকে ৪ হাজার যানবাহন এবং বিপুলসংখ্যক যাত্রী পারাপার হয়।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুজন আহমেদ বলেন, “বর্ষার পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণেই ঘাটগুলো বারবার স্থানান্তর বা বন্ধ করতে হচ্ছে। এটি একটি মৌসুমি সমস্যা। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটের রাস্তা তলিয়ে যাচ্ছে। জিও ব্যাগ ফেলে উঁচু করার কাজ চলছে। যাত্রী সুবিধা বাড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”