"রাষ্ট্রপতি দলীয় নাকি বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত বিএনপির বৈঠকে"

২৫ জুলাই, ২০২৬

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি দলীয় কোনো নেতা হবেন নাকি বাইরের কেউ হবেন সেটি চূড়ান্ত হবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনেই দলীয় স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা শেষে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত বার্তা আসবে।

​শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

​মির্জা ফখরুল বলেন, "এ বিষয়ে বিএনপি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সভা করেনি। আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সব জল্পনার অবসান ঘটবে এবং বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।" এ সময় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিজের নাম নিয়ে বাজারে ওঠা গুঞ্জন সংক্রান্ত প্রশ্নটি তিনি এড়িয়ে যান এবং বারবার জোর দিয়ে বলেন যে, দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

​এর আগে সম্মেলনের মূল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এখন কাজের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। দেশের বাজেটের একটি বড় অংশ বিভিন্ন খাতে অপচয় হলেও গবেষণার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক জায়গায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ মেলে না। তাই গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

​কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও সঠিক বাজারজাতকরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "পল্লী উন্নয়ন বলতে কেবল রাস্তাঘাট বা বাড়িঘর নির্মাণ বোঝায় না, বরং গ্রামীণ কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই আসল লক্ষ্য। যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সুনির্দিষ্ট বাজারজাতকরণের অভাবে আমাদের প্রান্তিক কৃষকেরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যার সমাধানে গবেষকদের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।"

​সাবেক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলেও শুধু কাগজে-কলমে দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, কেবল সরকারি চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে তরুণদের কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

​উক্ত অনুষ্ঠানে বগুড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও বিভিন্ন গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।