২৪ জুলাই, ২০২৬
প্রায় এক দশক আগে জাপানের একটি ঘটনা সারা বিশ্বের মানুষের নজর কেড়েছিল।অদ্ভুত মোড় আর আবেগঘন সমাপ্তির কারণে ঘটনাটি এখনো অনেককে মুগ্ধ করে।
২০১৭ সালে হোক্কাইদোর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কাছে অস্বাভাবিক একটি অনুরোধ করেন। তিনি তার পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানে সাহায্য চান। তার বাবা-মা প্রায় ২০ বছর ধরে একসঙ্গে থাকলেও তিনি কখনোই তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখেননি।
শুনতে বিষয়টি প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেটিই ছিল সত্যি।
ওই ২০ বছরে ওকুও কাটায়ামা ও তার স্ত্রী ইউমি একই বাড়িতে থেকেছেন। তারা তিন সন্তানকে বড় করেছেন। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেছেন। কিন্তু তারা প্রায় কোনোই অর্থপূর্ণ কথা একে অপরের সঙ্গে বলতেন না।
এই নীরবতার কারণ কোনো তিক্ত ঝগড়া বা বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না। এর পেছনের কারণ ছিল অবাক করার মতো সহজ। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাটায়ামা তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। কারণ, স্ত্রী সন্তানদের প্রতি যে মনোযোগ দিতেন, তা দেখে তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইউমি কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সাধারণত শুধু মাথা নাড়তেন বা অস্পষ্ট শব্দ করে উত্তর দিতেন।
পরিস্থিতি আর সহ্য করতে না পেরে সেই দম্পতির ছোট ছেলে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কাছে সাহায্য চান। অনুষ্ঠানটির আয়োজকেরা সেই পার্কে তাদের দেখা করার ব্যবস্থা করেন, যেখানে তারা প্রথমবার একসঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের তিন সন্তান দূর থেকে সবকিছু দেখছিল। প্রায় ২০ বছরের নীরবতা ভেঙে কাটায়ামা তার স্ত্রীকে বলেন, 'কীভাবে যেন আমাদের কথা না বলার অনেক দিন হয়ে গেল। তুমি সব সময় সন্তানদের নিয়েই চিন্তা করতে। ইউমি, এত দিন তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ।
আমি চাই, তুমি জানো আমি সবকিছুর জন্য তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ।'
এরপর তিনি এত দিনের নীরবতার আসল কারণও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমি একটু ঈর্ষান্বিত ছিলাম। এটা নিয়ে অভিমান করে ছিলাম। মনে হয় এখন আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।' এরপর তিনি আবার নতুন করে কথা বলা শুরু করার প্রস্তাব দিলে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন। এই আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এটি দেখে আবেগাপ্লুত হন। অনেকেই এত বছরের নীরবতার পর আবার সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সেই দম্পতির ইচ্ছার প্রশংসা করেন।
এই ঘটনা জাপানে বদলে যাওয়া সম্পর্কের ধরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।একই সময়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের কিছু মানুষ প্রচলিত প্রেমের সম্পর্কের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিয়ে করার পথ বেছে নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে জাপান সরকারের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৯ শতাংশ নারীর কোনো জীবনসঙ্গী ছিল না। এই তথ্যও দেশটির সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরে।