২৪ জুলাই, ২০২৬
ভারতের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ও সততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সাফল্য অর্জনে কোনো অবস্থাতেই অসদুপায় কিংবা শর্টকাট গ্রহণ করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিশিয়াল পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ পোস্টে এই বার্তা তুলে ধরেন তিনি।
নিজের পারিবারিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে শচীন টেন্ডুলকার লেখেন- ‘‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার মনে একটি শিক্ষা গেঁথে দিয়েছিলেন- ‘ব্যর্থতা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনও শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’’
বর্তমান সামাজিক মানসিকতার সমালোচনা করে শচীন বলেন, সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক ও অভিভাবকদের প্রথম দায়িত্ব হলো সঠিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, যে সমাজ কেবল শেষ ফলাফলকে প্রাধান্য দেয়, সেখানে মেধার চেয়ে অসদুপায় বা শর্টকাটের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই ফলাফলের চেয়ে শিক্ষার্থীর সৎ পরিশ্রমকে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের মনের ওপর তৈরি হওয়া প্রভাব নিয়ে শচীন লেখেন- আজ যখন শিক্ষার্থীরা অনুভব করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, তখন তাদের হতাশ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব হলো- এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কখনও তৈরি হতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ভারতের তরুণ সমাজ স্বপ্ন ও অপার শক্তিতে ভরপুর। তারাই দেশের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।
তরুণ সমাজকে উৎসাহিত রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের আলাদা আলাদা দায়িত্ব রয়েছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন এই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়।
বার্তার শেষাংশে তিনি লেখেন ‘‘আমাদের এমন একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের মর্যাদা দেয়া হবে, সততাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং চূড়ান্ত বিচারে মেধাই বিজয়ী হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করবে এবং তাদের সকল স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখবে।’’