হরমুজ নিয়ে আলোচনা করতে ইরানে ওমানের প্রতিনিধিদল

২৫ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে ইরানে পৌঁছেছে ওমানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনা জানায়, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ওমানের কূটনীতিকরা শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে তেহরানে পৌঁছান।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। বর্তমানে এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শত্রুতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রণালীটি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই বাড়তি জ্বালানি মূল্যের ঝুঁকিতে পড়ছে।

ইরনা জানিয়েছে, ওমানি প্রতিনিধিদলের এই সফর ইরান ও ওমানের মধ্যকার চলমান আলোচনারই একটি অংশ।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসািদির সঙ্গে ফোনালাপে কথা বলেন।

আলোচনাধীন প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান বলে আসছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পরিচালনার বিষয়ে তারা উন্মুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ওমান প্রণালীর প্রবেশ ও প্রস্থান মুখে একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে এবং ঐতিহাসিকভাবে আঞ্চলিক বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, প্রণালী মুক্ত চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে মুক্ত রেখে হরমুজ প্রণালীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবশ্যই উন্মুক্ত এবং চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরায় চালুর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর টানা ১৪ দিনের মতো একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত এবং প্রায় ৬৫০ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা