মাঝরাতে ক্ষুধা পায়? যেভাবে বন্ধ করবেন

২৫ জুলাই, ২০২৬

অনেকেই মাঝরাতে কিছু একটা খাওয়ার তাগিদ অনুভব করেন। মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা একঘেয়েমির মতো বিভিন্ন কারণে গভীর রাতে এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। এই সাধারণ কারণগুলো ছাড়াও, এই অভ্যাসটি বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা অন্যান্য অন্তর্নিহিত শারীরিক অসুস্থতার মতো গুরুতর সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। কিছু ব্যক্তি রাতে অতিরিক্ত খাওয়া প্রতিরোধ করতে বা প্রতিহত করতে হিমশিম খান। এটি মোকাবিলা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। 

গভীর রাতে খাবারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বন্ধ করার উপায়

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আপনি স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস মোকাবিলা করতে বা প্রতিরোধ করতে পারেন-

* সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত সুষম খাবার খান।

* সকালের বা দুপুরের খাবার বাদ দেবেন না।

* চিনিযুক্ত এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করুন।

* পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

* নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন।

* ব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।

* ধ্যান বা শিথিলকরণ কৌশল ব্যবহার করুন।

* অস্বাস্থ্যকর খাবার হাতের নাগালের বাইরে রাখুন।

* সত্যিই ক্ষুধা পেলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।

যদি রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস ঘন ঘন হয় বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তবে একজন ডাক্তার, ডায়েটিশিয়ান বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন, কারণ কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT)-এর মতো কাউন্সেলিং সহ প্রাথমিক চিকিৎসা এই চক্র ভাঙতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উভয়ই উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

গভীর রাতে খাওয়ার অভ্যাস কীভাবে স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে

২০২২ সালে ‘সেল মেটাবলিজম’ (Cell Metabolism) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমাদের খাবার গ্রহণের সময় আমাদের শক্তি ব্যয়, ক্ষুধা এবং মেদ টিস্যুর (adidose tissue) আণবিক পথগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। এর অর্থ হলো, গভীর রাতে খাওয়া আমাদের ক্ষুধার মাত্রা, খাওয়ার পর ক্যালোরি পোড়ানোর পদ্ধতি এবং শরীরে চর্বি জমার পদ্ধতিতে একটি বড় পার্থক্য তৈরি করে।

গবেষণাটির ফলাফলে দেখা গেছে যে, গভীর রাতে খাওয়ার ফলে ক্ষুধা এবং ক্ষুধা-নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেপটিন ও গ্রেলিনের ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে। এগুলো আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে। নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, গবেষণায় দেখা গেছে যে, তৃপ্তির সংকেত দেয় এমন হরমোন লেপটিনের মাত্রা, আগে খাওয়ার তুলনায় দেরিতে খাওয়ার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা জুড়ে হ্রাস পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অংশগ্রহণকারীরা দেরিতে খাবার খেলে তাদের ক্যালোরি পোড়ানোর হারও কমে যায় এবং শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।