২৯ জুলাই, ২০২৬
ধর্ম ও বিজ্ঞান পৃথক সত্তা। ধর্মের সাথে বিজ্ঞান কিছু জায়গায় সাংঘর্ষিক। কারন ধর্ম হলো নিঃশর্ত আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপণ আর বিজ্ঞান হলো পরীক্ষাগারে প্রমানিত সত্য।
একজন মানুষকে সাধারন পোশাকে সে কোন ধর্মে বিশ্বাসী তা বিচার করা কঠিন। কিন্তু ঐ একই মানুষকে বিজ্ঞান ভিত্তিক ফর্মুলায় পর্যালোচনা বা পরীক্ষা করলে অন্ততঃ ৮০% নিশ্চিত বলা সম্ভব তার ধর্মীয় পরিচয়।
আমরা এই বিশ্বটাকে আমাদের মতো করে দেখি বলে একটু এদিক-ওদিক হলেই ভিন্নতা চোখে পড়ে। কিন্তু আমরা যদি কাছেরই উন্নত জনপদ চীন দেশের খোঁজ খবর নেই, সেখানে নাস্তিকের সংখ্যা সর্বোচ্চ অথচ তারা দিব্যি গা সহা বিষয়ই মনে করে।
গত কয়েক দিন ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক মাদকসেবী কর্তৃক প্রথমে নামাজের স্থান পরে মসজিদ নির্মানকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তা ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। সর্বশেষ মসজিদ নির্মানকে কেন্দ্র করে একটি সাহসী কণ্ঠ দেশবাসীর বিবেককে প্রচণ্ডভাবে ঝাঁকুনি দিয়েছে। সে একজন লেবাসহীন মুসলমান হওয়ার পরও একজন লেবাসধারী মুসলমানের সাথে যে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছে তা ছিল সত্যি গায়ে শিহরণ দেয়ার মতো ঘটনা। বিগত ২০২৪-২৫ সালেও যদি ঠিক এই তর্কটি মিডিয়ায় আসতো তাহলে হয়তো ছেলেটি ধর্মীয় উগ্র বাদীদের মবের বলি হতো এটা অবলীলায় বলা যায়। তাকে যখন একজন লেবাসধারী মুসলমান প্রশ্ন করেন "তুমি কি হিন্দু?" ছেলেটি ভয় ভীতির উর্ধ্বে স্পষ্ট জবাব দিয়েছিল "সবার আগে আমি মানুষ, তারপর আমার অধিকার এবং অতঃপর আমার কাছে ধর্ম!" হ্যাঁ তাই তো? এটা সুশীল বা মহাজ্ঞানী মহাজনরা তো একবারও বলেননি। গত কয়েক দিন ধরে চলমান একটি বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০/৩০০ গজ দূরে সংগঠিত হলেও কেউ বিষয়টিকে মাথায় নেয়নি। কিন্তু একটি সাধারন ছেলে হয়তো উচ্চ শিক্ষিতও নয় তার যে মানবিক দর্শণ তা আমাদের সমাজের ধর্মীয় উচ্চ মার্গের তথাকথিত আলেমগণের মুখে কালিমা লেপন করেছে। আবারো প্রমান হলো "সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।"
সমকালিন ঘটনাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় গণতন্ত্রেরই বিজয় হয়েছে।এটাই হলো "গণতন্ত্রের সাথে স্বৈরতন্ত্রের পার্থক্য"। ড. ইউনূছ আমলে ধর্মীয় ফর্মুলায় যা কিছু ঘটেছে তা গণতন্ত্র নয় বরং ধর্মের সাথে মানুষের ব্যবধানের দেয়াল তৈরী করেছে ।
এভাবে যৌক্তিক প্রতিবাদ আমাদের পরিবার থেকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে প্রতিবাদের ভাষা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। হে বীর, তুমি দীর্ঘজীবি হও।