০৫ আগস্ট, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীতে প্রতীকী আদালত বসিয়ে শেখ হাসিনা, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয় নেতার বিরুদ্ধে প্রতীকী ফাঁসির রায় ঘোষণা এবং পরে সেই রায় অনুযায়ী প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করেছে জেলা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ) রাতে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ মিনারের বেদিতে প্রতীকী আদালত স্থাপন করা হয়। আদালতে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সাক্ষী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আসামির কাঠগড়ার প্রতীকী উপস্থাপনা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মহিপালের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত সাক্ষ্য ও আলোকচিত্র উপস্থাপনের পর প্রতীকী আদালত শেখ হাসিনা, নিজাম উদ্দিন হাজারী, আলাউদ্দিন নাসিম, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, শুসেন চন্দ্র শীল ও স্বপন মিয়াজির বিরুদ্ধে প্রতীকী ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। পরে তাদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।
শেখ ফরিদ বাহার বলেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। একইভাবে নিজাম উদ্দিন হাজারীও দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঢোকার সবচেয়ে কাছের জায়গা বিলোনীয়া। সেখানে আমরা মালা নিয়ে অপেক্ষা করব। আসুন, আপনাদের যথাযথ ‘মেহমানদারি’ করা হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তার অনুসারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। সে সময় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হলেও তার অস্ত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে মহিপালসহ ফেনীর বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু তালেব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দেখতে চায় ফেনীবাসী। জেলা ছাত্রদলের প্রতীকী বিচারের মতো বাস্তবেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইনি সহায়তার মাধ্যমে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে জেলা বিএনপি উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, এয়াকুব নবী, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এম কায়সার এলিন, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মিল্লাত, যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল, শওকত আলী জুয়েল পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকের হোসেন রিয়াদ পাটোয়ারীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।